ড্রেজার মেশিন ক্রয়ের নামে সোয়া দুই কোটি টাকার প্রতারণা

নদী খননের ড্রেজার আমদানীর নামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ২.২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এম এম এহসান নিজামী ওরফে তানিম এবং ফাহমিদা খাতুনের বিরুদ্ধে।

131
শেয়ার করুন সংবাদের আপডেট জানুন
  • 3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3K
    Shares

ঢাকা জুন ২৪:  নদী খননের ড্রেজার আমদানীর নামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ২.২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এম এম এহসান নিজামী ওরফে তানিম এবং ফাহমিদা খাতুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজধানী গুলশান থানায় গত ১০ জুন (মামলা নং ০৯) মামলা করেছেন আবু সাদেক নামে এক ঠিকাদার ।

এম এম এহসান নিজামী ওরফে তানিম ও ফাহমিদা খাতুন (ফাইল ফটো)

গত ২৬ মার্চ Account Payee চেকের মাধ্যমে Gulshan North Branch এ ২২২,৮৯,১২৫/- (দুইকোটি বাইশ লাখ ঊননব্বিই হাজার একশথ পঁচিশ টাকা) ১০% এলসি মার্জিন হিসেব জেভি একাউন্ট  ইএফই (বিডি)-তে জমা করেন সাদেক। টাকা জমা দেয়ার পর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এলসি দেয়ার কথা সাদেককে জানান তানিম। কিছু দিন পর এলসি দিতে গড়িমসি শুরু করে তানিম এবং সাদেক সন্দেহ করে তার সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। তানিম পর পর ৫টি তারিখ দিলেও গত ৫ জুন এলসি দেয়ার কথা জানান । কিন্তু তানিম এবং তার কথিত বস ফাহমিদা এলসি দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর সাদেক উপায়ন্তর না দেখে গত ১০ জুন গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে বলে জানান। তবে তানিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন সাদেকের ডকুমেন্টে কিছু সমস্যা আছে। এ বিষয়ে সাদেক জানান তানিমের বক্তব্য সত্য নয়। ইতিমধ্যে ইএফই (এসজি) লিমিডেট সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি জনাব উইলফ্রেড এক চিঠিতে দাবি করেন তাদের প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে এই ইনভেস্টমেন্ট যোগার করতে।

নদী খননের কাজ পেয়েও ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড নামের দেশীয় কোম্পানীটির ড্রেজিং মেশিন না থাকায় কাজ করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডে দুইটি ও নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ে এই কোম্পানীর তিনটি কাজ চলমান রয়েছে মুন্সিগঞ্জ মাওয়া এলাকায়। এছাড়া টাঙ্গাইলের একটি নদী খননের কাজের আদেশও কোম্পানীটি পেয়েছে।

জানা গেছে, ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড নামের কোম্পানী দীর্ঘ দিন ধরে দেশে ড্রেজিং ব্যবসা করে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও বেশ কিছু ড্রেজিংয়ের ঠিকাদারি কাজ হাতে থাকায় তাঁদের নতুন একটি ড্রেজিং মেশিন ক্রয় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে লীজ ফিন্যান্স টার্মে ২২ কোটি টাকা মূল্যের একটি ড্রেজিং মেশিন আমদানী করার জন্য এলসি খোলার চেষ্টা করে কোম্পানীটি। কিন্তু কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বল্প মার্জিনে এলসি খুলতে রাজী না হওয়ায় ড্রেজিং মেশিন আমদানীর চেস্টা স্থবির হয়ে পড়ে। আবু সাদেকের সাথে ব্যবসায়িকভাবে পরিচিত চন্দ্র শেখর বড়ুয়া নামের এক ব্যবসায়ী এই অবস্থা দেখে তাঁকে জানান এম এম এহসান নিজামী ওরফে তানিম নামে এক জন বড় ব্যবসায়ীর সাথে তার পরিচয় আছে এবং সে ড্রেজিং মেশিন বিদেশ থেকে আনতে পারবেন। রাজধানীর গুলশানের ইএফই (এসজি) লিমিডেট সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশে নামে তাঁদের একটি লিয়াজো অফিস রয়েছে।

ইএফজি লিমিটেড সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে বাংলাদেশে বহু বিনিয়োগ এনেছেও বলে জানানো হয়। প্রতারিত আবু সাদেক বলেন, আমার মতো তারা বহু ছোট ছোট ব্যবসায়ীকে মেশিনারিজ আমদানী ও রপ্তানির ক্যাপিটাল লোনের ব্যবস্থা করে থাকেন বলে প্রতারক চক্র দাবী করেছিল।

তাকে আরো জানানো হয় যে, বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁরা ড্রেজিং ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। সে কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ সপ্তাহে রাজধানীর গুলশান অফিসে সাদেকের সাথে একটি বৈঠক হয়।

আবু সাদেক এই প্রতিনিধিকে জানান তাকে জানানো হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য ড্রেজিং মেশিনের আমদানী মূল্যের মাত্র ২০ শতাংশ টাকা (১০ শতাংশ টাকা এলসি খোলার পূর্বে এবং বাকী ১০ শতাংশ এলসি ডকুমেন্টস মেশিন আসার পরে) প্রদান করতে হবে । বাকী ৮০ শতাংশ টাকা উক্ত সিঙ্গাপুরের কোম্পানী এসজি লিমিটেড পরিশোধ করবে বলে প্রতারক চক্র আবু সাদেককে জানিয়েছিলে। সিংগাপুর থেকে এলসি খুলে চীন থেকে ড্রেজিং মেশিন আমদানী করে বাংলাদেশে আবু সাদেকের কোম্পানীর ঠিকানায় সরবরাহ করার কথা ছিল। সিঙ্গাপুরের ইএফই (এসজি) লিমিটেড কোম্পানী কর্তৃক ৮০ ভাগ টাকা বাংলাদেশী কোম্পানীকে পরবর্তীতে ৫ বছরের নিদিষ্ট কিস্তিতে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রতারক চক্র বলেছিল, সিংগাপুরের কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত ৮০ ভাগ টাকার গ্যারান্টি হিসেবে বিন্টাং লারিস ট্রেড এন্ড ম্যানেজমেন্ট, এসডিএন বিএইচডি কর্পোরট গ্যারান্টি প্রদান করবে। সে হিসেবে  তাদের মধ্যে একটি চুক্তি করা হয়। পরে জেভি কোম্পানীর একাউন্টে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়।

এম এম এহসান নিজামী ওরফে তানিম ও ফাহমিদা খাতুন পলির সাথে যোগযোগ করা হলে তারা জানান মামলাটি ভিত্তিহীন এবং তারা নির্দোষ। তারা আরো দাবি করেন সাদেকের জন্য তারা বিদেশী বিনিয়োগকারী থেকে অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করছেন কিন্তু সাদেকের দেয়া তথ্যে কিছুটা সমস্যা আছে।

মামলার বাদী সাদেক সোমবার রাতে মর্নিং বেল রিপোরর্টারকে জানান,  মামলাটি ঢাকা মহানগর পুলিশের অন্য একটি সংস্থায়  বদলী করার জন্য আবেদন করেছেন।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, তারা মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি আরও বলেন, গুলশান এলাকায় এ জাতীয় বেশ কয়েকটি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় আছে।

  •  
    3K
    Shares
  •  
  • 3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •