বিআইডব্লিউটিএ ও পাউবো’র নদী ড্রেজিং নিয়ে নোংরা সাংবাদিকতা

35
শেয়ার করুন সংবাদের আপডেট জানুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা, মার্চ ০৩: বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, পিডব্লিউডি, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে দাপিয়ে বেড়ানো কথিত এ সাংবাদিকের নামের আদ্যাক্ষর ‘শ’। তার সম্পাদনা ও মালিকানায় পরিচালিত ‘হাওয়াই’ মিডিয়াটির (অনলাইন নিউজপোর্টাল) নামের আদ্যাক্ষর ‘প’। পৈতৃকনিবাস মানিকগঞ্জের একটি উপজেলার পল্লীতে। তার দৈহিক আকার-আকৃতি বেশ মোটাসোটা, তবে খাটো।

একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক এই সাংবাদিক ঢাকার একটি ছোট দৈনিক পত্রিকায় খুব অল্প বেতনে চাকরি করলেও তার আয়ের পথ হচ্ছে উপরোল্লিখিত সরকারি দপ্তরগুলো এবং ওইসব দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছে চাঁদাবাজি। এ কারণে ওইসব মহলে তিনি চাঁদাবাজ সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, চাঁদাবাজি করে ঢাকাতে দুটি ও মালয়েশিয়ায় একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। চড়েন দামি গাড়িতে। নিজেকে পরিচয় দেন নদী গবেষক, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং টেলিভিশনের প্রযোজক, পরিচালক ও উপস্থাপক হিসেবে। নিম্নমানের একটি টিভিতে মাঝে মধ্যে দু-চারটি অনুষ্ঠানও করেছেন তিনি।

অপর একটি সূত্র মতে, একসময়ে তিনি পিরোজপুর জেলার একটি উপজেলায় সিনেমা হলের টিকিট চেকার ছিলেন। সেখানে একটি ফৌজদারি মামলার আসামী হওয়ার পর পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা থেকেই গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। সেই মামলা থেকে মুক্ত হয়ে আর সেখানে যাননি এবং ঢাকাতেই একটি ছোট পত্রিকায় চাকরি নেন। এরপর নিজেই একটি হাওয়াই মিডিয়া গড়ে তোলেন।

বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে আসন্ন মুজিববর্ষ উদযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি ও সেখান থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশে এই হাওয়াই মিডিয়ায় গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং ৯, ১২, ১৩, ১৯ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি- ৬ দিনে নিজের নামে মোট ৬টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তিনি; যেগুলো সংস্থা দুটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ্ব মিথ্যাচারে ভরা।

মানিকগঞ্জে কর্মরত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী এবং রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত মানিকগঞ্জের একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, এই চাঁদাবাজ সাংবাদিক সেখানকার একটি উপজেলার অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান।

তার পৈতৃকবাড়িতে ১০ বছর আগেও ভালো বসতঘর ছিল না। জন্মের পর থেকেই দারিদ্রের মধ্যে বসবাস তার এবং অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন; যে কারণে পড়াশুনায়ও বেশিদূর এগোতে পারেননি বলে জানান তাঁরা। তবে, গত ৭-৮ বছরে কথিত এই সাংবাদিক যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন, যোগ করেন মানিকগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মীরা।

তাঁরা আরো বলেন, নিম্নবিত্ত পরিবার হলেও ‘শ’ আদ্যাক্ষরের কথিত এই সাংবাদিকসহ তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে বরাবরই জামাত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে এখন তাদের বাড়িঘরের চেহারা ও চাল-চলন বদলে গেছে। এলাকায় আবাদি-অনাবাদি মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন। ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন দামি গাড়ি হাঁকিয়ে। তবে মানিকগঞ্জের কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই এবং মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবেও তিনি আসেন না কখনও।

এদিকে নৌ, রেল ও সড়ক পরিবহন সেক্টরে কর্মরত ঢাকার গণমাধ্যমকর্মীদের একমাত্র সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) এই হলুদ তথা চাঁদাবাজ সাংবাদিক সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। সংগঠনের সদস্যরা তার গতিবিধির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

এসসিআরএফের একাধিক সদস্য বলেছেন, “আমাদের পেশার মান-মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। হলুদ সাংবাদিক যে-ই হোক, যে রাজনৈতিক আদর্শের হোক- আমরা তাকে প্রতিহত করবোই। প্রয়োজনে আমরাই তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবো।”

চলবে ….।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •