বিআইডব্লিউটিএ ও পাউবো নিয়ে নোংরা সাংবাদিকতা: চাঁদাবাজির অর্থে মালয়েশিয়া-ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাট, মানিকগঞ্জে বিপুল সম্পদ, দামি গাড়ি

57
শেয়ার করুন সংবাদের আপডেট জানুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৭: দেখতেও চাঁদাবাজের মতো বেশ মোটাসোটা ও বিকৃত চেহারার ‘শ আদ্যাক্ষরের এই কথিত সাংবাদিক তার নিজের মালিকানাধীন একটি হাওয়াই মিডিয়াকে (অনলাইন নিউজপোর্টাল) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এভাবে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তিনি বিএনপি-জামাতের রাজনৈতিক তহবিলে দিয়ে থাকেন; যে তহবিলের টাকা সরকাবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। তার হাওয়াই মিডিয়ায় যারা চাকরি করেন, তারা সকলেই বিএনপি-জামাত ঘরানার সাংবাদিক এবং ওই ফোরামের স্বীকৃত নেতা।

এছাড়া এই কথিত সাংবাদিক রাজধানীর একটি ছোট দৈনিক পত্রিকায় সামান্য বেতনে চাকরি করলেও তিনি চলাফেরা করেন নিজের দামি গাড়িতে। তার সন্তানও বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বিশেষ করে রাজউক, বেবিচক ও পিডব্লিউডিসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া সাংবাদিকরূপী এই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী অনেক ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে একাধিক সাংবাদিক নেতাসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে বিষয়টি জানিয়েছেন তাঁরা। সাংবাদিক মহল থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এই হলুদ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

কথিত এই সাংবাদিক এবার মুজিববর্ষকে সামনে রেখে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। একইসঙ্গে সেখানকার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে তাঁদের সম্মানহানি করছেন; গণমাধ্যম নীতিমালার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চাঁদাবাজির অপকৌশল।

বর্তমান সরকারের গত ১১ বছরে যেসব সেক্টরে উল্লেখযাগ্য উন্নয়ন হয়েছে তার মধ্যে নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সেক্টর অন্যতম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে দীর্ঘদিন চরম অবহেলিত এই সেক্টরের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড যাতে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালায় তুলে ধরতে না পারে, সেজন্য হলুদ সাংবাদিক ও তার হাওয়াই মিডিয়ার টার্গেট হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মুজিববর্ষ উদযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশে ‘প’ আদ্যাক্ষরের ওই হাওয়াই মিডিয়ায় গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং ৯, ১২, ১৩, ১৯ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি- ৬ দিনে নিজের নামে মোট ৬টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তিনি; যেগুলো বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে লেখা।

তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব ক’টি প্রতিবেদনই কল্পকাহিনী ও নির্লজ্জ্ব মিথ্যাচারে ভরা। বলা যায়, প্রায় শতভাগ মিথ্যাচার করা হয়েছে। আলোচ্য সরকারি সংস্থা দুটির যেসব প্রকল্পে অর্থলোপাটের কথা বলা হয়েছে, একটি প্রতিবেদনেও সে সম্পর্কে ‘মিথ্যাচার ও কল্পকাহিনী’র কথামালা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সংস্থা দুটির বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোও ডাহা মিথ্যা। কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তাঁরা প্রত্যেকেই বলেন, এ ধরনের অভিযোগ  কাল্পনিক ও বানোয়াট।

দেশেবিদেশে ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি

অন্যদিকে এই কথিত সাংবাদিক চাঁদাবাজির মাধ্যমে গত ৭-৮ বছরে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। সূত্র মতে, খোদ রাজধানীতে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। মালয়েশিয়ায়ও তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এই হলদু সাংবাদিক তার পৈতৃকনিবাস মানিকগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার পল্লিতে অন্তত দুই কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। তিনি যে গাড়িতে চলাফেরা করেন সেটির দামও অন্তত ৩০ লাখ টাকা। অথচ ২০১৫ সালেও একটি ভাঙাচোরা প্রাইভেটকারে চড়তেন তিনি।

ছেলে পড়ে বিদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে

এছাড়া এই কথিত সাংবাদিক তার ছেলেকে মালয়েশিয়ার কোয়ালালামপুরে একটি ব্যয়বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন; যেখানে চার বছরের গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করতে বাংলাদেশী মূদ্রায় অন্তত ৩০ লাখ টাকা অর্থাৎ বছরে গড়ে সাড়ে ৭ লাখ বা প্রতি মাসে ৬২,৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

চিকিৎসা নেন সিঙ্গাপুরে

সাধারণত কোনো সাংবাদিক গুরুতর অসুস্থ হলে দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল কিংবা সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অথবা বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষ অর্থসহায়তা দিয়ে থাকেন। প্রায় শতভাগ সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। কারণ সৎ সাংবাদিকের আয় সীমিত।

তবে এই চাঁদাবাজ সাংবাদিকের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। তিনি চিকিৎসা নেন সিঙ্গাপুরে। গত এক বছরে তিনি তিনবার সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। সর্বশেষ মাস ছয়েক আগে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে নৌ সেক্টরের কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে চিকিৎসার কথা বলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালেই তিনি ঢাকায় নৌ সেক্টরের এক ঠিকাদারের কাছে ফোনে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে ওই টাকা সেখানে পৌঁছে দিতে বলেন। কিন্তু ঠিকাদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওই চাঁদাবাজ সাংবাদিক তাঁকে রীতিমতো হুমকি দেন। ভুক্তভোগী ওই ঠিকাদার নিজেই এ প্রতিবেদককে এ কথা বলেছেন। চলবে ….।

  •  
    8
    Shares
  •  
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •