রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের পূর্ণ সমর্থন, হাসিনাকে সুষমার ফোন

54

ডেস্ক রিপোর্ট, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৫: রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে পুরোপুরি সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পৌনে ১০টার পর টেলিফোনে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুষমা স্বরাজ এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব এম নজরুল ইসলাম বার্তা সংস্থা বাসসকে এ কথা জানান।

নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন কথা জানিয়েছেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ফোনালাপে সুষমা স্বরাজ বলেছেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

এম নজরুল ইসলাম আরও বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে একই অবস্থানে আছে ভারত বলে জানিয়েছেন সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুষমা স্বরাজের কি কথা হয়েছে

সে ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার যাতে শরণার্থীদেরকে ফিরিয়ে নেয় সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানায় ভারত।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জানান, মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। বাংলাদেশ শুধু মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। বেশিদিন এত সংখ্যক শরণার্থী বাংলাদেশে থাকলে নানা ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

শুরুতে এ সঙ্কটে ভারতের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন মিয়ানমার সফরে গিয়ে সু চিকে সমর্থন দিলেন, কূটনৈতিকভাবে এ সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক মিত্র চীনের বরাবরই সমর্থন পেয়ে আসছে মিয়ানমার।

বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্ব সম্মত সিদ্ধান্তের পর এবং আন্তর্জাতিক মহলে মিয়ানমার সরকার ও সু চির প্রতি নিন্দা অব্যাহত থাকলে ভারত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ভারতের এ সমর্থন নিয়ে অনেকেই শঙ্কার কথা জানিয়েছে। রোহিংগাদের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী ৫৩ মেট্রিক টন সাহায্য নিয়ে আসলেও আজই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিংগাদের ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে এফিডেভিট দাখিল করেছে। সেখানকার আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভারত ত্যাগ করতে হবে জানিয়ে আসছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।