উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: বন্যায় শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু, সেনা মোতায়েন

429

ডেস্ক রিপোর্ট, আগস্ট ১৪ : এদিকে বাঁধ রক্ষা ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করেছে জেলা প্রশাসন।সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দিনাজপুরে কাজ করছে বন্যায়।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশকিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে তা প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।

দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায়হ একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে পানিতে ডুবে ৯জন,দেয়াল চাপায় দু’জন এবং সাপে কেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়।

দিনাজপুর: দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায়হ একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে পানিতে ডুবে ১৩ জন,দেয়াল চাপায় দু’জন এবং সাপে কেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে বাঁধ রক্ষা ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করেছে জেলা প্রশাসন।সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দিনাজপুরে কাজ করছে বন্যায়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন,দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। তিনি আজ রোববার এ প্রতিবেদককে জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বন্যা জনিত কারণে জেলায় পানিতে ডুবে,দেয়াল চাপায় এবং সাপে কেটে ১৪ জনের মুত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দিনাজপুর সদরে ৩ জন,বিরলে ৫ জন,কাহারোলে ৪জন,নবাবগঞ্জে একজন এবং বীরগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের বন্যা জনিত কন্টোর রুমে দিয়েছে এ ৫ উপজেলার নির্বাহী কর্তকর্তারা।কুড়িগ্রাম : জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ। ঘর-বাড়ি ছেড়ে বানভাসি মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমার ১৩২ সোন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকা বন্যার পানি তলিয়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে ধসে যাওয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সোনাহাট স্থলবন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠন। তলিয়ে গেছে ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ১১ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের পাটেশ্বরীতে ৩টি স্থানে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে কুড়িগ্রাম-ফুলবাড়ী সড়ক। রাজারহাটের কালুয়ারচরে বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে ২০টি বাড়ি। ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কে পানি ওঠায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে বেশ কিছু গবাদী পশু।

লালমনিরহাট : জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ধরলা নদী বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদী বিপৎসীমার ৬৫ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ও ধরলার পানিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট রেলওয়ে সড়ক তিনটি স্থানে ভেঙে যাওয়ায় এই রুটে রোববার সকাল থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মোত্তালেব জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অন্য সব ট্রেনের শিডিউলও বাতিল করা হয়েছে।

বুড়িমারী-পাটগ্রাম রেলওয়ে লাইনের পাটগ্রাম ব্র্যাক অফিস এলাকায় ধরলার পানির ধাক্কায়  রেলব্রিজ সংলগ্ন রেলওয়ে লাইন সড়ক, তিস্তার পানির ধাক্কায় হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেলওয়ে লাইন সড়ক ভেঙে গেছে। এ ছাড়া এই রুটের পারুলিয়া-ভোটমারী রেলওয়ে লাইনের মাঝামাঝি স্থানের রেলওয়ে লাইন সড়কও ভেঙে গেছে তিস্তার পানির ধাক্কায়। ফলে এই রেলওয়ে রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাসের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এ্যালাট জারি করেছে। প্রায় এক লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠে পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই রেলওয়ে রুট সংস্কার না করা পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম।

রংপুর : তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিন উপজেলার ১০০টি চরে বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা তিনটি হলো- কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা। বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার। তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। যেকোনো সময় অতিক্রম করতে পারে। জেলা ত্রাণ অফিস জানিয়েছে, তাদের ত্রাণ ভাণ্ডার শূন্য। নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিনটন চাল চেয়ে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কাউনিয়া উপজেলার চর চতুরা, চর নাজিরদহ, পল্লীমারী, চর গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, গুপিডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, প্রাননাথচর, চর ঢুসমারা, হয়বত খাঁ, চর গনাই, টাপুর চর, বিশ্বনাথ চর, আজম খাঁ, হরিচরন শর্মা, রাজিব অংশ ৪, নিজপাড়া ও তালুকশাহবাজ গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে বন্যা কবলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নেত্রকোনা : কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নই প্লাবিত হয়েছে। এখানে ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমেশ্বরী, আত্রাই ও কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

সদর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতালেব সরকার জানান, তার ইউনিয়নে ১০টি গ্রামের বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে পার্শ্ববর্তী পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ময়মনসিংহ-জারিয়া রেলপথের জারিয়া-ঝাঞ্জাইল অংশে পানি রেল লাইনের কাছে চলে আসায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

নীলফামারী : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও  কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২২টি চরের ও নদীবেষ্টিত এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার বোড়গাড়ি, হরিণচড়া, পাঙ্গমটকপুর, সদর ইউনিয়ন, বামুনিয়া, নীলফামারী সদরসহ বন্যায় জেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

রাতভর টানা বৃষ্টির মধ্যে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বিস্তার বাধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়। ওই ঢলের পানি গ্রামের ছয় শতাধিক বাড়িতে প্রবেশ করেছে। নদীর পানির তোড়ে ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের গাইডবাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। অপরদিকে একই ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামে সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি হুমকির মুখে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

তিস্তা ব্যারেজ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিস্তা অববাহিকার গ্রাম ও চর এলাকায় মাইকিং ও ঢোল পিটিয়ে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিস্তা নদীর বন্যা ছাড়াও গত পাঁচদিনে একটানা ভারি বৃষ্টিপাতে ডোমার, নীলফামারী সদর, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলায়ও বন্যা দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) গেট খুলে রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা : টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় ঘাঘট নদী ও ব্রক্ষপুত্র নদের পানি ফের বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দ্বিতীয় দফা বন্যায় গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জসহ চার উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ওইসব এলাকার রাস্তাঘাটসহ তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার পাট, আমন বীজ তলাসহ ফসলি জমি। পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে বেশকিছু বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।

জেলার ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫৭ সে.মি. ঘাঘটে ৫৬ সে.মি. করতোয়ায় ৮৪ সে.মি. এবং তিস্তায় ৫০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্রে পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সে.মি. এবং ঘাঘটে নিউব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, বালাসীঘাটের কাইয়াঘাটসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে নতুন করে আরো হাজার হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

পানিবন্দি এসব মানুষের মধ্যে অনেকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে শেষ সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। এসব মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে রেলের জায়গা, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।