বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তে দুটি কমিটি

475

ঢাকা, আগস্ট ১১: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ দুটি কমিটি গঠন করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এর পরেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।’

ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংস্থাটির উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে। অন্য দুজন হলেন- সহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।

সিভিল এভিয়েশনের করা তদন্ত কমিটিতে কারা আছেন তা জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র মোদক জানিয়েছেন, শুক্রবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উত্তরা, কুর্মিটোলা, সদর দফতর ও টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি দেবাশীষ বর্ধন। তিনি জানিয়েছেন, কি কারণে আগুন লেগেছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন লাগার স্থান ও আশপাশে তল্লাশি করে দেখছেন।

বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বহির্গমনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করে দেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল খোলাই ছিল। ডিপারচারও বর্তমানে খুলে দেওয়া হয়েছে।

অঘ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের কার্যক্রম কার্যত থমকে যায়। আন্তর্জাতিক রুটের অন্তত ছয়টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।