ষোড়শ সংশোধনী পুনরায় সংশোধনের উদ্যেগ নিলে ভুল করবে সরকার: মওদুদ

79

ঢাকা, আগস্ট ৫: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, উচ্চতর আদালত কর্তৃক বাতিল ঘোষিত ষোড়শ সংশোধনী পুনরায় সংশোধনের উদ্যেগ নিলে সরকার ভুল করবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত ‘নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনঃ প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মওদুদ বলেন, ষোড়শ সংশোধনী যতবার বাতিল করা হবে, ততবার সংসদে পাস করা হবে- বলে সরকারের এক মন্ত্রী যেভাবে দম্ভোক্তি করেছেন  তা অত্যন্ত বিপজ্জনক কথা।  এতে প্রমাণ হয়- সুপ্রিম কোর্ট ও বিচার বিভাগের ওপর এই সরকারের আস্থা নেই। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

শুক্রবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী যতবার আদালতে বাতিল হবে ঠিক ততবার তা সংসদে পাস করা হবে। বিচারকদের সরকার চাকুরী দেয় এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে  অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনবরতভাবেই এটি করতে থাকবো। দেখি জুডিশিয়ারি কতদূর যায়।’

এ প্রসঙ্গে আজ ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার যদি মনে করে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, তাহলে তারা হেরে যাবে। অতীতেও যারা বিচার বিভাগের ওপর হাত দিয়েছে, তাদের হাত পুড়ে গেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন,  ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় শুধু ঐতিহাসিক নয় বরং দেশের ১৬ কোটির মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন। এই রায় এখন জাতীয় দলিল। ফলে যারা এই রায়ের অবমূল্যায়ন করতে চান কিংবা উল্টে দিতে চান তাদের  অনুশোচনা করতে হবে  এবং এতে করে সরকারের পতন আরও দ্রুত হবে।

দেশে গণতন্ত্র ও রাজনীতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের মহানায়করা যারা কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলেন, তারা যদি তাদের এলাকায় আমাদের ঘরোয়া পরিবেশে হলেও বৈঠক করার সুযোগ না দেন; তাহলে তাদের কাছ থেকে কী করে গণতন্ত্র আশা করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এদের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এরা নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে বলব- যদি নির্বাচনি পরিবেশ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে সাহস না পান তাহলে পদত্যাগ করুন।